কলার সিগাটোকা রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

ড. কে. এম. খালেকুজ্জামান: কলা এক প্রকারের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ফল। সাধারণত উষ্ণ জলবায়ু সম্পন্ন দেশসমূহে কলা ভাল জন্মায়। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াই কলার উৎপত্তিস্থল হিসাবে পরিগণিত। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বহু দেশে কলা অন্যতম প্রধান ফল। বাংলাদেশে কলা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সারা বছর এ দেশের প্রায় সব অঞ্চলের উঁচু জমিতেই এর চাষ করা যায়। কলা চাষে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের দেখা দেয়। এমন একটি রোগ হলো পাতায় দাগ বা সিগাটোকা। যার বিস্তার ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

কলা গাছে পাতায় দাগ বা সিগাটোকা (Leaf spot or Sigatoka) রোগটি সারকোস্পোরা মুসি (Cercospora musaeনামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার: রোগের জীবানুর উৎপাদন বর্ষাকালে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। জীবানু বৃষ্টিপাত, বাতাস, রোগাক্রান্ত পুরাতন শুকনা পাতার মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। তাই বর্ষাকালে রোগের আক্রমন বেশী দেখা যায়। তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেঃ-এর পরে হলেও রোগের প্রকোপ বাড়ে।

রোগের লক্ষণ:    
● প্রথমে পাতাতে শিরামধ্যবর্তী অঞ্চলে শিরার সমান্তরালভাবে সাজানো হলুদ বা বাদামী সরু এবং লম্বাটে দাগ দেখা যায়।
● দাগগুলি পরে বেড়ে গোলাকার বা ডিম্বাকৃতির হয়।
●দাগগুলি পুরাতন হলে তার কেন্দ্র ধুসর সাদাটে বর্ণ ধারন করে, কিনারা গাঢ় কাল এবং তার চারপাশে হলুদ আভাতে ঘেরা থাকে।
● ছোট ছোট দাগ একত্রিত হয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে।
● পুরাতন দাগ গাঢ় বাদামী বা কাল রং ধারন করে।
● রোগের আক্রমন বেশী হলে পাতার অনেক অংশ নষ্ট হয়ে যায়।
● ব্যাপকভাবে আক্রান্ত পাতা শুকিয়ে ঝলসে যায় ও পোড়া মনে হয়।
● ফল ছোট আকারের হয়, অকালে পেকে যায় ও ফলন কম হয়।

রোগের প্রতিকার:       
● রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করতে হবে।
● রোগমুক্ত চারা লাগাতে হবে।
● পাতলা করে গাছ লাগাতে হবে।
● আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত পাতা কেটে ফেলে রোগের তীব্রতা কমানো যায়।
● ২-৩ মাস পর পর গাছের নীচের দিকের পাতাগূলো সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলতে হবে।
● জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
● রোগের প্রাদুভাবের সংগে সংগে সমস্ত গাছে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ১.৫ গ্রাম অথবা প্রোপিকোনাজোল গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-টিল্ট ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে।

লেখক:

উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares