কালোমাথা মাজরা পোকা থেকে ফসল রক্ষায় ব্রি’র ৪ পরামর্শ

দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশে ফসল ক্ষেতে হলুদ মাজরা পোকার আক্রমণ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে গত ২-৩ বছর ধরে রংপুর, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ দেশের কিছু কিছু এলাকায় কালোমাথা মাজরা পোকার আক্রমণ বেশ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় ফসল রক্ষায় চাষিদের চারটি পরমর্শ দিয়েছে ব্রি।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) বলছে, গত বছর মাজরা পোকা আক্রান্ত মৃত ডিগ ও সাদা শীষ সংগ্রহ করে গবেষণা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, আউশ, রোপা আমন এবং বোরো তিন মওসুমেই কালোমাথা মাজরা পোকার উপস্থিতি ছিল। আউশ মওসুমে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, ৫০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

কালোমাথা মাজরা পোকা ধানসহ বিভিন্ন দানা জাতীয় ফসল যেমন- গম, ভুট্টা এবং আখে আক্রমণ করতে পারে। ফলে এ পোকা নিয়ে সাবধান থাকতে হবে।

ব্রি জানায়, কালোমাথা মাজরা পোকা কখনোই সুপ্ত অবস্থায় থাকে না। আবহাওয়া পরিবর্তন, ধারাবাহিক ফসল চাষ এবং পোষক ফসলের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে সারা বছরই এ পোকা স্বাভাবিক জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে। ফলে এর পপুলেশন (পোকার সংখ্যা) বেড়ে যায়। মাঠে ধান না থাকলে অন্য ফসলেও এ পোকা জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে।

একটি ধানের কুশিতে ৩০-৪০টি পর্যন্ত এ পোকার লার্ভার উপস্থিতি দেখা গেছে। সে কারণে যে এলাকায় এ পোকার আক্রমণ ঘটে সেখানে ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

এই পোকার হাত থেকে ফসল রক্ষায় চারটি পরামর্শ দিয়েছে ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগ। সেগুলো হলো-

১. ক্ষেতে ডাল-পালা পুঁতে দিয়ে পোকা খেকো পাখির সাহায্যে পোকার সংখ্যা কমানো যায়।

২. হাতজাল দিয়ে পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে।

৩. সন্ধ্যার সময় আলোক ফাঁদের সাহায্যে মথ আকৃষ্ট করে মেরে ফেলতে হবে।

৪. ক্ষেতে মরা ডিগ শতকরা ১০-১৫ ভাগ অথবা মরা শীষ শতকরা ৫ ভাগ পাওয়া গেলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। পূর্বে এ পোকার আক্রমণ না থাকায় এ পর্যন্ত কালোমাথা মাজরা পোকার কোনো অনুমোদিত কীটনাশক নেই। তবে বেল্টএক্সপার্ট ৪৮ এসপি, সানটাপ ৫০ এসপি, মাইনেকটো এক্সট্রা ৪০ এসপি, বাতির ৯৫ এসপি লেবেলে উল্লিখিত মাত্রায় ব্যবহার করে এ পোকা দমন করা যেতে পারে।

কালোমাথা মাজরা পোকা আক্রান্ত এলাকায় কৃষকদের মধ্যে অতিদ্রুত এসব ব্যবস্থাপনা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ব্রি।