গারো পাহাড়ে মধু চাষে স্বাভলম্বী হচ্ছে অনেকে

জাহিদুল হক মনির: ভারত সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের ১২টি স্থানে স্থানীয় ও ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা প্রায় চার হাজার কাঠের বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।

সরেজিমনে দেখা গেছে, উপজেলার গারো পাহাড়ের সারি সারি শাল, সেগুন, মহুয়া, গজারী, আকাশমনি, ইউকেলিপটাস, মিলজিয়ামসহ নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিঘেরা উঁচু-নিচু টিলা বেষ্টিত অঞ্চলের ছোট গজনীতে গাজীপুরের গৌরাঙ্গ, গুরুচরণ দুধনইতে স্থানীয় হালিম, তাওয়াকুচায় সাতক্ষীরার মিলন, জোকাকুড়ায় সিরাগঞ্জের মোস্তফা, উত্তর পানবরে দিনাজপুরের জসিম, বড় গজনীতে রামপুরার রতন, নকশীতে সাতক্ষীরার করিম, দরবেশ তলায় স্থানীয় সাম্বুদা, গান্ধীগাঁওয়ে সাতক্ষীরার আমিনুর, মিজান, কাউচার, হলদিয়া গ্রামে টাঙ্গাইলের আবু হানিফ খান কাঠের বাক্স বসিয়ে মৌচাষ করছেন। এদের মধ্যে অনেক চাষী বাক্সের সামনে আগুনের ধোঁয়া দিয়ে মধু সংগ্রহ ও মৌমাছির পরিচর্যা করছেন।

উপজেলার গুরুচরণ দুধনই গ্রামের স্থানীয় মৌচাষি হালিম জানান, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে (বিসিক) মৌমাছি প্রকল্পের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি মৌচাষ শুরু করেন। তিনি মধু চাষ করে স্বালম্বী হয়েছেন। এ উপজেলায় বর্তমানে ১২ থেকে ১৫টি স্থানীয় ও ভ্রাম্যমাণ মৌচাষের দল ৪ হাজার কাঠের বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাতক্ষীরার ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি আমিনুর রহমান জানান, আমরা গত অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে এখানে এসেছি। এ সময়টুকু এ পাহাড়ে মৌচাষের উপযুক্ত সময় ছিল। আমি ৩৩০টি বাক্স থেকে একমাসে ১২মণ মধু সংগ্রহ করেছি। এ এলাকায় আর এক সপ্তাহ আছি, এর মধ্যেই আরও পাঁচ থেকে সাত মণ মধু সংগ্রহ করা যাবে। পরর্বতীতে সরিষা চাষ হচ্ছে এমন এলাকায় গিয়ে মৌচাষ করবেন বলে জানিয়েছেন এ মৌচাষি।

উপজেলার হলদিয়া গ্রামে ভ্রাম্যমান মৌচাষি ন্যাশনাল এপিকালচার ফাউন্ডেশনের সভাপতি টাঙ্গাইলের আবু হানিফ খান জানান, ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদিয়া গ্রামে আমি ২৫০টি কাঠের বাক্সে মৌমাছি বসিয়ে গত ৩০ দিনে মধু সংগ্রহ করেছি ১২ মণ। এ এলাকায় প্রচুর সবজি চাষ হয়। বর্তমানে সবজিতে কীটনাশক স্প্রে করায় মাছি মারা যাচ্ছে, তাই আজ (শুক্রবার) চলে যাবো। কিন্তু এখনই মধু সংগ্রহের সময় ছিল, এখানে আর সপ্তাহ খানেক থাকতে পারলে আরও অন্তত ১২ থেকে ১৩ মণ সংগ্রহ করা যেত।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হুমায়ুন কবির বলেন, এ উপজেলায় মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বর্তমানে এখানে ১২ থেকে ১৫টি স্থানীয় ও ভ্রাম্যমান মৌচাষির দল মধু সংগ্রহ করছেন। তাদের যেকোন সমস্যার কথা জানা মাত্রই, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কৃষকরা যাতে সবজিতে কীটনাশক ব্যবহার না করে, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ বলে জানান এ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares