ঢেঁড়শের ঢলে পড়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

রোগের নাম: ফিজারিয়াল ঢলে পড়া (Fusarial wilt) রোগ

রোগের কারণ: ফিজারিয়াম অক্সিসপোরাম এফ.এসপি ভ্যাজিনফেক্টাম (Fusarium oxysporum f.sp. Vesinfectum) নামক ছত্রাকের আক্রমইে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার: ছত্রাক গুলো প্রধানত মাটি বাহিত এবং অন্যান্য শস্য আক্রমণ করে। মাটিতে জৈব সার বেশী থাকলে এবং জমিতে ধানের খড়কুটা থাকলে জীবাণুর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়। সাধারণত মাটির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে (২৮ – ৩০ ডিগ্রী সেঃ) ও যথেষ্ট পরিমাণ আর্দ্রতা থাকলে এ রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। পানি সেচের মাধ্যমে আক্রান্ত ফসলের জমি হতে সুস্থ ফসলের মাঠে বিস্তার লাভ করে।

রোগের লক্ষণ: এ রোগ ঢেঁড়শ গাছের বৃদ্ধির যে কোন পর্যায়ে হতে পারে। তবে চারা গাছগুলোতেই বেশী দেখা যায়।
প্রাথমিক অবস্থায় গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। রোগের আক্রমণ বেশী হলে পাতা গুটিয়ে যায় এবং সর্বশেষে গাছটি মরে যায়। আক্রান্ত গাছের কান্ড বা শিকড় লম্বালম্বিভাবে চিরলে উহার পরিবহন কলাগুলোতে কাল দাগ দেখা যায়।

প্রতিকার: 

শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে।
বর্ষার আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের মধ্যে ঢেঁড়শের বীজ বপন করতে হবে।
রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন-বারি ঢেড়শ ১ চাষ করতে হবে।
ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে।
জমিতে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
জমিতে উপযুক্ত পরিমাণে পটাশ সার প্রয়োগ করলে রোগ অনেক কম হয়।
শিকড় গিট কৃমি দমন করতে হবে কারণ ইহারা ছত্রাকের অনুপ্রবেশে সাহায্য করে।
কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে।
কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর গাছের গোড়ায় ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

লেখক: উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব) মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, শিবগঞ্জ, বগুড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *