পলিনেটে মাটির স্পর্শ ছাড়া বছরব্যাপী চারা উৎপাদন

মাটির স্পর্শ ছাড়া, কীটনাশক ব্যবহার না করে পলিনেটে উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি চারা। এ পদ্ধতিতে বছরব্যাপী চারা উৎপাদন করছেন বগুড়ার কৃষক রোকন তালুকদার। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির বদলে ট্রে-পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা উন্নতমানের হয়।

কোকোপিট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনকালে পোকামাকড়ের আক্রমণ হয় না। খরচও কম হয়। সবজি ভান্ডার হিসেবে খ্যাত বগুড়া জেলার কৃষকরা সনাতন পদ্ধতিতে সবজি চারা উৎপাদন করে আসছিলো। এখন তারা নজর দিয়েছেন আধুনিক কৃষি পদ্ধতির দিকে।

বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ি গ্রামে উন্নতমানের সবজিচারা উৎপাদনের নার্সারি গড়ে তুলেছেন কৃষক রোকন তালুকদার। লেখাপড়া শেষে কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। গেলো এক বছর ধরে তার নার্সারিতে মাটির স্পর্শ ছাড়া ও কীটনাশক ব্যবহার না করে পলিনেটে উৎপাদন হচ্ছে ভাইরাসমুক্ত সবজি চারা।

কৃষক রোকন তালুকদার জানান, প্রত্যেকটা চারার সমান গ্রোথ হয়। এর ফলে ওই চারাগুলো জমিতে যেয়ে সমান ফলন দেবে। অথচ স্বাভাবিকভাবে যে চারাগুলো পাওয়া যায় এর মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের ছোট-বড় থাকে। এই সমস্যাটা তৈরি হয় খাদ্য ও জায়গার সল্পতার জন্য। ওই ৩৫ শতাংশ চারাই জমিতে ফলন খারাপ দেয়।

পলিনেটে ব্যবহৃত হয় নারিকেলের আঁশ দিয়ে তৈরি কোকোপিট। এই পদ্ধতিতে যে কোন সবজি চারা বার মাস উৎপাদন সম্ভব। আর এই চারা থেকে ফলনও হয় দিগুণ, জানান কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তালুকদার নার্সারি থেকে আমরা চারা নিয়েছি। যারা আবাদ করেছি তারা মোটামুটি লাভবান, কেননা এখানকার চারার রোগবালাই খুব কম। সারাদেশে এই পদ্ধতির ব্যবহার পৌঁছে দিতে কাজ করছে কৃষি অধিদপ্তর।

বগুড়া খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, যে চারা প্লাস্টিক ট্রে-এর মাধ্যমে উৎপাদিত হয় এবং কোকোপিটের মাধ্যমে উৎপাদন হয় এই চারার রোগবালাই একেবারে নাই বললেই চলে। এখান থেকে মূল জমিতে যখন এই চারাগুলো লাগানো হয় তখন এর মৃত্যুহার খুবই কম। এই চারা ব্যাপকভাবে সাড়া জাগিয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় কৃষকদের সাথে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

রোকন তালুকদারের সবজি চারা উৎপাদনের পদ্ধতি কৃষির আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখবে, বলছেন কৃষিবিদরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *