ফসলে সমস্যার সমাধানে ড. নুরুল হুদা মামুনের ‘কৃষি জিজ্ঞাসা’

বিশেষ প্রতিনিধি: কৃষি প্রধান এ দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি হলো কৃষি খাত; আর কৃষকরা হলেন এই শক্তির প্রধান উৎস্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দক্ষ পরিচালনায় কৃষি খাত অর্থনীতিতে দ্রুত উন্নতি হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাগনের নিরলস প্রচেষ্ঠা ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আমরা আজ খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা থেকে খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশের নাগরিকে পরিণত হয়েছি। তবে আবাদি জমি না বাড়লেও, যেহারে মানুষ বাড়ছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে আমরা সমস্যার সম্মূখিন হতে পারি।

অনেকাংশে কৃষি নির্ভর এ দেশে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা নেই বলে অনেকে মনে করছেন। আর এ কারনেই কৃষি বৈজ্ঞানিকরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জাত ও চাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করছেন। কিন্তু প্রতি বছর জলবায়ুর পরিবর্তন, নানা কারণে বিভিন্ন রোগ ও পোকা-মাকড় ফসলের ক্ষতি সাধন করে। আর এ ক্ষতি থেকে ফসলকে রক্ষার জন্য কৃষক অজান্তে ক্ষতিকর বালাইনাশক ব্যবহার করেন। এতে এক দিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এজন্য সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা সর্ম্পকে কৃষকদের কিছুটা হলেও ধারণা থাকা দরকার। আবার অনেকে বাণিজ্যিক ভাবে ফসল উৎপাদন কারী কৃষকরা সময় মত কি ধরনের পরির্চযা নিতে হবে তা অনেকে অবগত নন। কেউবা আবার শখের বসে কৃষি কাজ করতে চাইলেও ফসল রক্ষার কৌশল জানেন না। তাদের এমন অজ্ঞতার কারনে, লাভের পরিবর্তে তাদের লোকসান গুনতে হয়। এমন সব সমস্যার কথা বিবেচনা করেই কৃষিবিদ ড. মো. নূরুল হুদা আল মামুনসহ অনেকে অনেক বই লিখেছেন।

বাংলা ভাষায় কৃষি বিষয়ক অনেক বই থাকলেও, ওই সকল বইয়ে আধুনিক কালের কৃষকদের প্রশ্ন ও কৃষি সমস্যার সরাসরি জবাব খুঁজে পাওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এমতাবস্থায়, কৃষিবিদ ড. মো. নূরুল হুদা আল মামুন আধুনিক কালের কৃষকদের প্রশ্ন ও কৃষি সমস্যার সরাসরি জবাব নিয়ে “কৃষি জিজ্ঞাসা” নামক একটি বই লিখেছেন। বইটি ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় লেখকের প ম বই হিসেবে প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এই বইটি সাধারণ কৃষকদের নানা সমস্যার সমাধানে কাজে লাগবে বলে লেখক দৃঢ় আশাবাদী।

কৃষিবিদ নূরুল হুদা আল মামুন কৃষি বিষয়ক ও সাহিত্যে লেখালেখির জন্য স্বীকৃতি স্বরুপ অর্জন করেছেন- মা মাটি মানুষ গ্রুপ সম্মাননা-২০১৫, বাংলাদেশ কবি পরিষদ সম্মাননা-২০১৫, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য সম্মাননা-২০১৫, অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ সম্মাননা-২০১৫, মা মাটি মানুষ প্রুপ সম্মাননা-২০১৬, মিরপুর কৃষিবিদ ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি সম্মাননা-২০১৭ এবং মা মাটি মানুষ সাহিত্য গ্রুপ জাজ প্যানেল সম্মাননা-২০১৮ অর্জন করেছেন।

তিনি ১৯৮৭ সালে এস.এস.সি, ১৯৮৯ সালে এইচ.এস.সি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে বি.এসসি-এজি ডিগ্রী অর্জন করেন। এর পর বেসরকারি একেটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। সেখানে থাকাবস্থায় তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এম.এস এবং ২০১৮ সালে পি.এস.টি.ইউ থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করেন।

কৃষিবিদ ড. মো. নূরুল হুদা আল মামুন কর্ম জীবনের শুরুতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রডাকশন ম্যানেজার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। এরপর ২০০১ সালের এপ্রিল মাস থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনষ্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *