বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার দমন ব্যবস্থা

ডিপ্লোমা কৃষিবিদি সারোয়ার জাহান: বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা (Brinjal Shoot and Fruit Borer)
বৈজ্ঞানিক নাম: Leucinodes orbonalis

পরিচিতি:
পাখায় বাদামী দাগযুক্ত সাদা রঙের স্ত্রী মথ কচি ডগা, ফুল, কুঁড়ি এবং ফলের বৃতিতে একটি একটি করে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে লালচে গোলাপী রঙের কীড়া ফুল, কুঁড়ি, কচি ডগা ও বৃতি ছিদ্র করে ভিতরে ঢোকে। আক্রান্ত ফল থেকে কীড়া বের হয়ে মাটিতে পুত্তলী অবস্থায় থাকে।

জীবনচক্র: এদের জীবনচক্রের ধাপ চারটি। যথা-
১) ডিম
২) শুককীট/লার্ভা/কীড়া
৩) মূককীট/পিউপা
৪) এডাল্ট/মথ/পূর্ণাঙ্গ পোকা

ক্ষতির ধরণ:
এদের কীড়া(কুঁড়ি, পাতার বোটা, কচি ডগা ইত্যাদি) ছিদ্র করে খেতে খেতে ভিতরে ঢুকে সুড়ঙ্গ তৈরি করে। সুড়ঙ্গ সৃষ্টি করার ফলে নিচের খাদ্য উপরে পৌঁছেতে পারে না তাই কচি ডগা ঢলে পড়ে এবং অবশেষে মারা যায়। একই ভাবে ফল ছিদ্র করে ভিতরে ঢোকে ও শাঁস খায় ও কীড়ার মথ থেকে ছত্রাকের জন্ম নেয় ফলে ফল পছে যায় অথবা বাঁকা হয়ে যায়। আক্রান্ত ডগা শুকিয়ে যায় এবং পাশ থেকে শাখা-প্রশাখা উৎপন্ন হয়। বেগুন কাটলে ভিতরেও পোকার মল ও পচা সুড়ঙ্গের চিহ্ন থাকে। কীড়া অবস্থায় ডগা ও ফলে আক্রমণ করে।

অনুকূল পরিবেশ:
বেগুন ফসলের জমিতে সাধারণত চারা রোপণের ৪-৫ সপ্তাহ পর থেকেই বেগুনের কচি ডগায় ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ শুরু হয়। সাধারণত অন্য বেগুনের জমি বা আশপাশের পুরনো শুকনা বেগুন গাছের স্তূপ থেকে পোকার মথ জমিতে আসে
এবং পরে ডগা ও ফলে বংশবৃদ্ধি করে। ঋতুভেদে বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমনের মাত্রায় ভিন্নতা দেখা যায়। উষ্ণ এবং আদ্র আবহাওয়া এ পোকার বংশবৃদ্ধিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে বলে গ্রীষ্মকালে এ পোকার ব্যপক আক্রমন পরিলক্ষিত হয়।
অন্যদিকে শীতকালে এ পোকার আক্রমনের হার কম থাকে।

জৈবিক ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে দমনঃ
১) বেগুনের জমি গভীরভাবে চাষ করা ও আগাছা মুক্ত রাখা।
২) প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার আক্রান্ত ডগা ও ফল ছিড়ে ধ্বংস করতে হবে এবং জমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
৩) ১ লিটার পানিতে ৫০ গ্রাম আধাভাঙ্গা নিমবীজ ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে, ছেঁকে আক্রান্ত গাছে ১০ দিন পর পর ৩ বার স্প্রে করলে এই পোকা নিয়ন্ত্রন করা যায়।
৪) প্রতি ২.৫ শতাংশ জমিতে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ (বিএসএফবি) ব্যবহার করে পুরুষ মথ ধরে এদের বংশ কমানো।
৫) ২.৫ শতাংশ জমিতে ১টি করে হলুদ আঠালো ফাঁদ স্থাপন করা।

রাসায়নিক পদ্ধতিতে দমন:
“রিলোড ১৮ এসসি” ৫ মিলি প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে। অথবা “ফাইটার ২.৫ ইসি” ১৫ মিলি প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে। অথবা “কট্ ১০ ইসি” ১০ মিলি প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে। অথবা “কেয়ার ৫০ এসপি” ১২ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে। অথবা “প্রোটেক্ট ৫০ এসজি” ১০ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে। অথবা “ভলিয়াম ফ্লেক্সি৩০০এসসি” ৫মিলি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতক জমিতে স্প্রে করা। অথবা “প্লোক্লেম২৫০wp” ৫গ্রাম ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতক জমিতে স্প্রে করা। অথবা “সাইপারিন১০” ১০ মিলি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে 5 শতক জমিতে স্প্রে করা। অথবা “কোরাজেন” ৩মিলি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতক জমিতে স্প্রে করা। অথবা নাইট্রো, সাইপারপস, সাইকেল, টিডো প্লাস, স্মাইট স্কেভেঞ্জার ইত্যাদি কীটনাশক অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *