মধু চাষে বছরে আয় ৫০ লাখ টাকা

১০টি গ্রামের মানুষ মধু চাষ করে তাদের আর্থিক অনটন জয় করে এখন সচ্ছল জীবযাপন করছেন। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পূর্ব জালালপুর গ্রামের আজাদ মিয়া মৌমাছির চাকের খোঁজে পাহাড়-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন। মৌমাছির চাক (বাসা) পেলেই মৌমাছি তাড়িয়ে চাক থেকে মধু সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। এক পর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েন তিনি। তার সাফল্য দেখে কমলগঞ্জের মধ্যভাগ, শ্রীপুর, কাঁঠালকান্দি, পূর্ব জালালপুর, কোনাগাঁও, নতুনবাজার, আধখানি, কালারাবিলসহ বিভিন্ন গ্রামে ৫ শতাধিক মানুষ মধু চাষে আগ্রহী হন।

২০০৭ সালের দিকে মৌলভীবাজার বিসিক শিল্পনগরী কর্তৃপক্ষ মধুচাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। বিভিন্ন ধাপে ৫০-৬০ জন চাষি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং আগের তুলনায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন তারা মধু চাষ করছেন। বছরে একেকটি বাক্সের মৌমাছি ৩-৪ বার ভেঙে ৩০-৩৫ লিটার মধু সংগ্রহ করে ১৫-১৭ হাজার টাকা আয় করেন। একেকজন চাষির বাড়িতে ৩ থেকে ৭টি বাক্স রয়েছে। পাঁচ হাজার টাকার মধ্যেই একটি বাক্স বসানো যায়। এসব বাক্সে এপিস সেরেনা (দাসকুলি) নামের মৌমাছি লালন-পালন করে মধু চাষ করা হয়। উন্নত প্রজাতির আফ্রিকান মিলিপ্যাগ মৌমাছি লালন-পালন করে মধু চাষ করা হলে বছরে কমপক্ষে ৫০-৫৫ লিটার মধু একেকটি বাক্স থেকে উত্তোলন সম্ভব বলে জানান মধ্যভাগ গ্রামের মধুচাষি আবদুল মোতালিব। তবে তার জন্য প্রয়োজন আরো উন্নতমানের প্রশিক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। আজাদ মিয়া নামের এক মধুচাষি জানান, মধু চাষে কম খরচে বেশি আয় হয়। এক লিটার মধু বিক্রিতেই হাতে আসছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। কমলগঞ্জ মধুচাষি উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ তালুকদার বাবুল জানান, মৌ-চাষে যে উপকরণ বেশি পরিমাণে প্রয়োজন, যেমন শস্যচাষ, ফুল ও ফলের বাগান, তা কম হওয়ায় অনেক সময় আশানুরূপ মধু পাওয়া যায় না।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ উদ্যোগী হয়ে চাষিদের শস্য ও ফলমূল চাষে প্রলুব্ধ করলে মধুচাষিরা আরো সফল হবেন।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, আদমপুর এলাকার পাশেই পড়েছে রাজকান্দি বন। বিস্তৃত এই বনের গাছে গাছে মধুর চাক তৈরি করে মৌমাছি। পেশাদার মধু আহরণকারীরা সেখান থেকে মধু সংগ্রহ করে হাটবাজারে বিক্রি করেন। খাঁটি এই মধুর খোঁজে আদমপুরে ছুটে আসেন ক্রেতারা। তবে প্রাকৃতিক মধু দিয়ে সবার চাহিদা মেটানো যায় না। তাই এলাকায় দু-চারটি কাঠের বাক্স বানিয়ে মৌমাছির কলোনি সৃষ্টি করে মধুর চাষ শুরু হয়। লাভজনক হওয়ায় বছর ১০-১২ ধরে এই মধু চাষ বাণিজ্যিকভাবে এলাকার ঘরে ঘরে সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রায় বাড়িতেই আছে এক-দুটি বাক্স। মধুচাষিরা জানান, রাজকান্দি পাহাড়ের কাছে কাঁঠালকান্দি গ্রামের আজাদ মিয়া একজন মধু শিকারি। তিনি গাছের ঝুলন্ত চাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। তিনি পাহাড় থেকে ‘রানি মৌমাছি’ ধরে আনেন। কাঠের বাক্সে কলোনি তৈরি করেন। এরপর সেই রানি মৌমাছিসহ কলোনি বিক্রি করেন। আজাদ মিয়া জানান, এতে করে নানা দিকে ছড়িয়ে পড়ে মধু চাষ। এখন আরো অনেকেই এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। সূত্র: বাংলাদেশের খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *