মাল্টায় ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বুনছেন রিনা আক্তার

রিফাত হোসাইন সবুজ, নওগা: সাইট্রাস ফসলের মধ্যে মাল্টা অন্যতম জনপ্রিয় ফল। বিশ্বের সর্বমোট উৎপাদিত সাইট্রাস ফসলের দুই তৃতীয়াংশ হলো মাল্টা। বাংলাদেশে এই ফলটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং দিন দিন বেড়ে চলছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় মাল্টা চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন নওগাঁর রিনা আক্তার। জেলার ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার। তিনি তার জমিতে মাল্টা রোপন করে এখন তার বাগান ফলে ফলে ভরে গেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে তিনি অনেক মুনাফা লাভের স্বপ্ন দেখছেন।

জানা গেছে,উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত আঙ্গরত তেলিপাড়া গ্রামের পাকা রাস্তার পার্শে মায়া কানন (বায়ো এগ্রি ফার্ম) নামে একটি নার্সারী গড়ে তোলা হয় নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার। কৃষিবিদ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিনা আক্তার ছোট বেলা থেকে কৃষির প্রতি তার বিশেষ আগ্রাহ ছিল। বিশেষ করে ফল বাগান গড়ে তোলা তার স্বপ্ন ছিল। গ্রাজুয়েশন করার পর চাকুরী না হওয়ায় তিনি হতাশ না হয়ে নেমে পড়েন ফল বাগান করতে। তার নিজ হাতে গড়ে তোলেন মায়া কানন। এব্যাপারে রিনা আক্তার বলেন,ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড.মো.জামাল উদ্দিন ও বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজার সার্বিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমি ৫০শতাংশ জমিতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ১ বছর বয়সী উন্নত মানের মাল্টা চাষ শুরু করি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ১০ ফুট পর পর চারা গাছ রোপন করা হয়। মোট ১৩৬টি চারা গাছ রোপন করেন।

পরের বছর গাছে ফুল আসলেও তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। এবছর গাছে পর্যাপ্ত ফুল আসে এবং অসংখ্য ফল ধরে। বর্তমানে প্রতি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আশা করা যাচ্ছে প্রতি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে। আগামী আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে ফল নামানো শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে পাইকারী মাল্টা ১শত থেকে ১শত ২০ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে।

সেই অনুযায়ী ১শত টাকা কেজি হলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে যার দাম হবে ১ হাজার টাকা। সেই হিসেবে ১৩৬টি গাছ থেকে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হয় তবে এবার মাল্টা বিক্রি করে লাভের আশা দেখছেন। রিনা আক্তার আরও বলেন, প্রতিটি চারা গাছ তিনি ১৫০ টাকা দর হিসেবে ২০ হাজার ৪শত টাকায় কিনেছেন। এছাড়া শ্রমিকের মজুরী ও অন্যান্য বাবদ মোট ৫০হাজার টাকা খরচ করেছেন। তিনি মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে প্রায় ৭০হাজার টাকা ব্যয় করেছেন।

তিনি আশা করছেন এবছর তিনি ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা মাল্টা বিক্রি করবেন। পরে বছর দ্বিগুন লাভের আশা করছেন। ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড.মো.জামাল উদ্দিন বলেন,ধামইরহাটের মাটি যে কোন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগি। এ অঞ্চলের মানুষ শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকে। বর্তমানে ধান চাষে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে এলাকার চাষীদেরকে লাভ জনক ফল বাগানে চাষে উদ্বৃদ্ধ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন,রিনা আক্তারকে মাল্টা ও ড্রাগন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তার বাগানে মাল্টার প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।

এছাড়া উন্নতমানের মাল্টা চারা বারি-১ সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ অঞ্চলের মাটি যে কোন ফল চাষের জন্য উপযোগি। এ অঞ্চলে মাল্টা ও ড্রাফন ফলের মিষ্টতা ও গুনাগুন অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভালো। তাছাড়া বাজারে মাল্টা এবং ড্রাফন ফলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার বেকার যুবকরা ওই বাগান দেখে ইতোমধ্যে অনেকে ফল বাগান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চল ফলের এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *