সেচ খরচ হ্রাস ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিবান্ধব বর্তমান সরকারের আমলে দেশে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, সেচ খরচ হ্রাস ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সবসময়ই কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে নিয়োজিত। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু কৃষিবিপ্লবের উপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সেচের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে নিয়েছিলেন যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি নগদ ভর্তুকি ও সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে কৃষকের মাঝে সেচযন্ত্র বিক্রির ব্যবস্থা করেন। জামার্নি থেকে জরুরী ভিত্তিতে পানির পাম্প এনেছিলেন। ১৯৭১-৭২ সাল থেকে ১৯৭৪-৭৫ সালে-এই ৩ বছরে অগভীর নলকূপের সংখ্যা ৬৮৫টি থেকে বেড়ে ৪০২৯টি, গভীর নলকূপের সংখ্যা ৯০৬টি থেকে ২৯০০টি এবং পাওয়ার পাম্পের সংখ্যা ২৪,২৪৩টি থেকে ৪০,০০০টি তে দাড়াঁয়। সে ধারা অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারও সেচের আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও সেচ খরচ কমাতে নিরলস কাজ করছে। ফলে, সেচের এলাকা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কমে এসেছে সেচ খরচও।

 

কৃষিমন্ত্রী রবিবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউস্থ বিএডিসি অডিটোরিয়ামে ‘ভূগর্ভস্থ পানি মনিটরিং ডিজিটালাইজেশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। বিএডিসি ‘ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়নে জরিপ ও পরিবীক্ষণ ডিজিটালাইজেশন প্রকল্পের’ আওতায় এ সেমিনারের আয়োজন করে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, পানির টেকসই ব্যবহার ও পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। নদী-খাল খনন ও পুন:খনন, রাবার ড্যাম,জলাধার নির্মাণ, পানি সাশ্রয়ী পদ্ধতির ব্যবহারসহ অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে ফসল উৎপাদনে সেচের খরচ অনেক কমেছে; এটিকে আরো কমিয়ে আনতে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। সেচ দক্ষতাকে ৩৮% থেকে ৫০% উন্নীত করা হবে যাতে করে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ে ও সেচ খরচ আরও কমে আসে।
বিএডিসির তথ্যে জানা যায়, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে গত ১০ বছরে সেচ এলাকা সম্প্রসারণ হয়েছে ১০.৫০ লক্ষ হেক্টর; খাল পুনখনন করা হয়েছে ৯৪৫৭ কি.মি; সেচনালা স্থাপন করা হয়েছে ১৩,৩৫১ কি.মি. এবং ১০টি রাবার ড্যাম ও ১টি হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে, সেচ এলাকা ৫৬.২৭ লক্ষ হেক্টরে, সেচ দক্ষতা ৩৫% হতে ৩৮% এবং ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার ২১% থেকে ২৭% এ উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এবং সেচযোগ্য জমির ৭৩% সেচের আওতায় এসেছে।

তাছাড়া, সেচের আধুনিকায়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সেচকৃত এলাকা ৬০ লক্ষ হেক্টর, সেচ দক্ষতা ৩৮% হতে ৫০% এ উন্নীতকরণ, সেচকাজে ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার ৩০% এ উন্নীত এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার ৭০% হ্রাস করা। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিসচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম। বিএডিসির চেয়ারম্যান মো: সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেচ ও পানি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল মজিদ, সিইজিআইএসের নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান, প্রকল্প পরিচালক মো: জাফর উল্লাহ ও বিএডিসির সদস্য পরিচালক (ক্ষুদ্রসেচ) মো: আরিফ বক্তৃতা করেন।

উল্লেখ্য, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পানির টেকসই ব্যবহার ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯৬৭-৬৮ সালে বিএডিসি প্রাথমিক পর্যায়ে কন্ট্রাক গ্যাজের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরিমাপ কার্যক্রম শুরু করে। সম্প্রতি ‘ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়নে জরিপ ও পরিবীক্ষণ ডিজিটালাইজেশনকরণ প্রকল্প’ এর আওতায় প্রতিটি উপজেলায় ১ টি করে অর্থাৎ ৪৬টি ওয়াটার লেভেল ডাটা লগার স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থানচিত্র তৈরি এবং সময়ে সময়ে তা হালনাগাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও স্পেস টেকনোলজি ও রিমোর্ট সেন্সিং এর মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ এবং জিআইএস এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে পানির স্তরের হালনাগাদ তথ্য দেয়া হচ্ছে।

তাছাড়াও সমুদ্র উপকূলবর্তী ৬০ টি উপজেলায় স্যালাইনিটি ডাটা লগার স্থাপনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ লবণ পানি পর্যবেক্ষণ এবং অনুপ্রবেশ মনিটরিং এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাই কৃষি, শিল্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাজে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিরুৎসাহিতকরণ, ভূগর্ভে পানির পুনর্ভরণ এবং ব্যবহার কমিয়ে এনে উহার নিম্নগামিতা নিয়ন্ত্রণ করতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরিবীক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেমিনারের আগে কৃষিমন্ত্রী সেচ ভবন কমপ্লেক্সে নবনির্মিত রেস্ট হাউজের উদ্বোধন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *