আধুনিক পদ্ধতিতে বারোমাসি তরমুজ চাষে সফলতা

কলাপাড়ায় বর্ষাকালীন তরমুজ চাষাবাদ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে একদল কৃষক। দীর্ঘ ৬ বছর গবেষণা করে উন্নত জাতের দুই প্রজাতির বর্ষাকালীন তরমুজ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে পটুয়াখালী উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র।

রসালো ও সুস্বাদু ফল হিসেবে তরমুজের খ্যাতি রয়েছে বিশ্বজুড়ে। এছাডাও গরমের সময শরীরে পানিশূন্যতা রোধে তরমুজের জুড়ি নেই। বিরূপ পরিবেশে মালচিং পেপার ব্যবহার ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে সফল হয়েছেন এখানকার কৃষকরা।

কৃষকদের এই উদ্যোগ সারা দেশের কৃষকদের জন্য অনুসরনীয় হতে পারে বলে মনে করেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। এভাবেই বর্ষা মৌসুমে বারোমাসি তরমুজ চাষ করছে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের কৃষকরা। স্থায়ীভাবে বাঁশ, মালচিং পেপার, পলিথিন, জাল দিয়ে সেট তৈরি করে বর্ষা মৌসুমেও তরমুজ চাষ করছেন তারা।

এখানে বারি-১ এবং বারি-২ জাতের ভিতরে হলুদ এবং লাল জাতের তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তারা। তরমুজের হাইব্রিড ল্যান ফেই জাতটির গা সবুজ ডোরাকাটা। ভেতরের শাঁস হলুদ রঙ্গের।

ভালো পরিচর্যা পেলে একটি তরমুজের ওজন হয চার থেকে পাঁচ কেজি।সারা বছর ব্যাপী এ তরমুজ মাঁচায ও মাঠে চাষ করা যায। এ ফল পরিপক্কতার সময আসতে ৬৫ থেকে ৭০ দিন সময় লাগে। উপযুক্ত দাম পাওয়া গেলে এই তরমুজ চাষে দিন দিন আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন সংশিস্নষ্টরা।

কুমিরমাড়া গ্রামের সফল কৃষক জাকির হোসেন জানান, গ্রীন হাউস তৈরি করে উচ্চমূল্যের ফসল ফলানোর কারনে বিভিন্ন মিডিয়ায় নিউজ হয়। যা দেখে পটুয়াখালী উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা থেকে কর্মকর্তারা এসে আমাদের তরমুজ চাষে উৎসাহিত করে। পরে তাদের কাছ থেকে বীজ ও চারা এনে চাষ করছি। এ বছর তরমুজ বিক্রি করে খুবই লাভবান হচ্ছি। তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামীতে অনেক জমিতে তিনি তরমুজ চাষ করবেন।

তরমুজ চাষি ওমর ফারুক জানান, আমরা জানতাম না বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষ করা যায়। কৃষি গবেষণার মহাপরিচালক আমাদের নিশ্চয়তা দিলে তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাই। এ বছর ৬৬ শতাংশ জমিতে বারি-১ এবং বারি-২ জাতের তরমুজ চাষ করেছি। এতে আমার ব্যায় হয়েছে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা।

 তিনি জানিয়েছেন আলস্নাহর রহমতে ভালো ফলাফল পেয়েছি এবং লাভবান হয়েছি।

স্থানীয় কৃষক আবদুর রহমান জানান, বর্ষাকালীন তরমুজ সম্পর্কে আমাদের ধারণা না থাকায় এ বছর চাষ করতে পারিনি। ভবিষ্যতে আমরাও সেট করে তরমুজ চাষাবাদ করমু।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুলস্নাহ জানান, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমাড়া গ্রামের কৃষকরা বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছে। তিনি আরও জানান, কুমিরমাড়াসহ সব ইউনিয়নে উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার করতে প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করে থাকে উপজেলা কৃষি অফিস।

পটুয়াখালী উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: ইদ্রিস আলী হাওলাদার জানান, এ তরমুজের বৈশিষ্ট্য হলো ভ্যারাইটি দুটো বারোমাস অর্থাৎ বছরব্যাপী চাষাবাদ করা যায়। আমি দেখে খুবই অভিভূত, আমাদের চেয়েও কৃষকরা আরো ভালো পেড়েছে। কৃষকরা আশাবাদী তারা ভালো লাভবান হবে।