উচ্চ তাপমাত্রাসহিষ্ণু ধানের জাত আনছে ব্রি

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ২০১৩ সাল থেকে উচ্চ তাপমাত্রা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের গবেষণা শুরু করে। উচ্চ তাপমাত্রা সহিষ্ণু এন২২ জাতের সঙ্গে বোরো মৌসুমের জনপ্রিয় আধুনিক জাত ব্রি ধান২৮-এর সংকরায়ণ করে মার্কার অ্যাসিসটেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতির মাধ্যমে একটি অগ্রগামী সারি নির্বাচন করেছে। জাতটি ফুল ফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সহনশীল।

সম্প্রতি দেশজুড়ে উচ্চ তাপমাত্রা বা হিট শকে ধানের ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ তাপসহিষ্ণু ধানের জাত এবং এ-সংক্রান্ত গবেষণার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য গতকাল গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক এমপি। ভবিষ্যতে উচ্চ তাপমাত্রাজনিত বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য বিজ্ঞানীরা কী ধরনের গবেষণা করছেন মূলত সে সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভের জন্য তিনি অনেকটা আকস্মিকভাবেই ব্রির গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন। প্রায় ঘণ্টাধিককাল ধরে তিনি গাজীপুরে ব্রির গবেষণা মাঠে উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল ধানের গবেষণা প্লটসহ ব্লাস্ট ও বিএলবি প্রতিরোধী ধানের অগ্রগামী জাত, ব্রি উদ্ভাবিত বাসমতি টাইপ ধান, হাইব্রিড ধানের গবেষণা এবং ব্ল্যাক রাইসসহ বিভিন্ন উন্নত গুণসম্পন্ন জাতের প্লটগুলো পরিদর্শন করে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিদর্শনকালে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর মন্ত্রীকে বিভিন্ন গবেষণা প্লট সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বলেন, এ সারি বর্তমানে আঞ্চলিক ফলন পরীক্ষণ পর্যায়ে রয়েছে। ফলন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হলে এটিকে জাত হিসেবে অনুমোদনের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ডে আবেদন করা হবে। জাত হিসেবে অনুমোদিত হলে ফুল ফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেও এ সারি আশানুরূপ ফলন দিতে পারবে।

পরিদর্শনকালে তিনি সুপার হাইব্রিড ইউএস৮৮ এবং ব্রি উদ্ভাবিত বোরো মৌসুমের ব্রি হাইব্রিড ধান৩, ব্রি হাইব্রিড ধান৫, ব্রি হাইব্রিড ধান৮ (প্রস্তাবিত) এবং বহুল প্রচলিত হাইব্রিড এসএল-৮ ও তেজ গোল্ডের ফলনের তুলনামূলক পরীক্ষণ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান৫-এর বীজ উৎপাদন প্লট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি খাদ্যনিরাপত্তায় ব্রির বিজ্ঞানীদের প্রস্তুতি ও গবেষণা অগ্রগতি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং ব্রি বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানান। এ সময় বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, ব্রির পরিচালক (গবেষণা) ড. কৃষ্ণপদ হালদার, পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।