এবার এলো দোতলা কৃষি

আসাফুর রহমান কাজল: নিচতলায় ঘনবসতি। দ্বিতীয় তলায়ও শুরু হয়েছে বসতি। দোতলার নিচে সারি সারি ঘাটকোল। সবুজে ছেয়ে গেছে। পা ফেলবার জো নেই। প্রতিদিন স্থানীয় বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ওষধি গুণ সম্পন্ন ঘাটকোল। তার উপরে দোতলা করে সেখানে লাগানো হয়েছে জনপ্রিয় সবজি পটল।

ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের প্রবীণ কৃষক ইসলাম শেখ এমন দোতলা সবজি বাগান করে এলাকায় তাক লাগিয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পতিত জমিতে বা বন-বাদাড়ে অনাদরে বেড়ে ওঠে অনেক ওষধি গাছ। ঘাটকোল তেমনি ওষধি গুণসম্পন্ন একটি সবজি। বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে বেশ সুনাম রয়েছে এর। অন্য রকম এবং মজাদার এই সবজি ব্যথা-বেদনা উপশমের পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়িতে রান্না হচ্ছে ঘাটকোলের কয়েক রকম পদ।

দিন দিন এ ঘাটকোল চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষক। ঘাটকোল, খারকোল, ঘাটকচু, ঘেটকচু, খারকোন, ঢাটকোল ইত্যাদি বিভিন্ন নামে পরিচিত একটি সবজি। যা বনে বাগানে জন্মায়। এর অনেক পুষ্টিগুণ আছে। এটি সুস্বাদু। গরম ভাতে ঘাটকোল ভাজি হলে মাছ-মাংসও লাগে না। ভুনা, ভর্তা হিসেবেও খাওয়া যায়। দুধ-ঘাটকোলও হয়। স্বাস্থ্যর জন্য খুবই ভালো, বিশেষ করে ত্বকের জন্য। ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করে। প্রচুর ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে।

আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য তার ‘চিরঞ্জীব বনৌষধি’ গ্রন্থে ঘাটকোল সম্পর্কে লিখেছেন, “এটি অতিশয় উত্তেজক, উদরশুলনাশক, রক্তস্রাব নিবারক ও বিরোচোক। বিষাক্ত সাপের কামড়ে মূল বেটে দংশিত স্থানে প্রলেপ ও কিছুটা খেতে দেয়ার প্রচলন আছে। মৌমাছি, বোলতা, ভীমরুল বা বিছায় কামড়ালে যন্ত্রণা উপশমে এর মূল বেটে দেয়া হয়। ঘাটকোল খেলে পায়খানা পরিষ্কার হয়। পেটের ব্যথা কমে।” দক্ষিণ ভারতে ঘাটকোলের চাষাবাদ হয়। একই সাথে পটলেরও রয়েছে নানা গুণ।

কৃষক ইসলাম শেখ জানান, ঘাটকোলের দাম এখন অনেক। এক আঁটির দাম ১৫ টাকা। তাই ঘাটকোলের চাষাবাদ করেছি। কৃষি অফিস থেকে বলেছে, একই সাথে পটলেরও চাষাবাদ করা যায়। লাভও বেশি হবে। আশা করছি ঘাটকোল থেকে ৪০ হাজার টাকার বেশি আয় হবে আর পটলে ৭০-৭৫ হাজার টাকা। ৩৩ শতক জমিতে আর কি চাই।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন জানান, অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, উত্তর আফ্রিকা, সিংহলে ঘাটকোল গাছ আছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার বনজঙ্গলে প্রচুর ঘাটকোল গাছ জন্মায়। ঘাটকোলের পাতা গাঢ় সবুজ। ডাঁটা ১০-১৫ ইঞ্চি লম্বা হয়। দেখতে অনেকটা কচুর মতো। এই ডাঁটা সবাই খায়। পাতা বেটে খাওয়ারও প্রচলন আছে। সুস্বাদু বলে এই সবজিটি এ অঞ্চলের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। ঘাটকোল এর সাথে পটলের চাষাবাদ এই প্রথম। ইসলাম শেখ একজন ভালো কৃষক। তার উদ্যোগও ভালো। আমরা এটি সম্প্রসারণে কাজ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *