চাষাবাদের ছাড়পত্র পেলো ‘বঙ্গবন্ধু ধান’

উচ্চমাত্রার জিংক-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু ধান ব্রি ১০০-সহ ৬ জাতের ধান চাষাবাদের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বোরো মৌসুমে সারা দেশে চাষযোগ্য এই ৬ জাতের ধানের মধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে ৫টি এবং অপর একটি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)। এ ছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয় দুই জাতের গম, এক জাতের পাট এবং দুই জাতের আখ চাষাবাদের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বলাই কৃষ্ণ হাজরার সই করা প্রজ্ঞাপনটি ২৬ আগস্ট গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করা ধানগুলো হলো—বঙ্গবন্ধু ধান ব্রি ১০০, ব্রি ধান ৯৯, ব্রি ধান ৯৮, ব্রি ধান ৯৭ এবং ব্রি ধান ৯৬। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ধান হচ্ছে বিনা ধান-২৪। চাষের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (ডব্লিউএমআরআই) উদ্ভাবিত দুই জাতের গম হচ্ছে—ডব্লিউএমআরআই গম-৩ ও ডব্লিউএমআরআই গম-২। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত নতুন জাতের পাট হচ্ছে—বিজেআরআই দেশি পাট-১০। বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিটিউ (বিএসআরআই) উদ্ভাবিত নতুন দুই জাতের আখ হচ্ছে—বিএসআরআই আখ-৪৮ ও বিএসআরআই আখ-৪৭।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চাষের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া ‘বঙ্গবন্ধু ধান’ ব্রি ১০০ একটি উচ্চমাত্রার জিংক-সমৃদ্ধ ধান। ব্রি ১০০ ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক কম হয়। বোরো মৌসুমে চাষযোগ্য এ ধানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ৭ টন। এ ধান উপযুক্ত পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ৮ দশমিক ৮ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম বলে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বলাই কৃষ্ণ হাজরা বলেন, ‘এই ধানটি ব্রি উদ্ভাবিত ১০০তম ধান। এখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী চলছে। একশ’তে একশ’ মিলে যাওয়ার কারণেই আমরা এই নামকরণের বিষয়টি বিবেচনা করি। বঙ্গবন্ধুর নামে কোনও কিছু করতে হলে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমতি নিতে হয়। আপনারা জানেন, প্রধানমন্ত্রী ওই ট্রাস্টের সভাপতি। এ কারণে আমরা সেখানে আবেদন করে অনুমতি নিয়ে নামকরণটি চূড়ান্ত করেছি।’

ধানটি উচ্চ ফলনশীল উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ধানটির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন প্রায় ৯ মেট্রিক টন। আমরা যদি কৃষকদের মাঝে এই ধানটি ছড়িয়ে দিতে পারি এবং তারা ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করেন, তাহলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন, তা বাস্তবায়নে এটি ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।’ সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন