টমেটোর নাবি ধসা রোগ ও প্রতিকার

টমেটো বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। আগে টমেটো সাধারণত কৃষকের মাঠে রবি মৌসুমে অর্থাৎ শীতকালে চাষ করা হতো। তবে এখন তা টবে বা বাড়ির আঙ্গিনায় সারা বছরই চাষ হয়ে থাকে। টমেটোর রোগ গুলোর মধ্যে নাবি ধসা রোগ গুরুত্বপূর্ণ।

নাবি ধসা (Late blight) :

টমেটোর নাবি ধসা একটি ছত্রাকজনিত রোগ।  আগাম ধসা রোগ উচ্চ তাপমাত্রায় হলেও এই রোগটি হয় নিম্ন তাপমাত্রায় (১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং সেই সাথে উচ্চ আর্দ্রতায় (৯৬% এর ওপরে)।  মেঘাচ্ছন্ন স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।  বাতাস ও সেচের মাধ্যমে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

রোগের লক্ষণ:

১. প্রাথমিক অবস্থায় পাতার উপর সবুজ কালো, পানিভেজা আঁকাবাঁকা দাগ পড়ে। আর্দ্র আবহাওয়ায় এসব দাগ সংখ্যায় ও আকারে দ্রত বাড়তে থাকে এবং বাদামি থেকে কালচে রঙ ধারণ করে।

২. মাঝে মাঝে পাতার নিচের দিকে সাদা সাদা ছত্রাক জন্মে। আক্রান্ত পাতা পচে যায়। পাতা হতে কাণ্ডের এবং কাণ্ড হতে ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

৩. প্রথমে ফলের উপরিভাগে ধূসর সবুজ, পানি ভেজা দাগের আবির্ভাব হয়। ক্রমশ সে দাগ বেড়ে ফলের প্রায় অর্ধাংশ ছড়িয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত অংশ বাদামি হয়ে যায়। রোগের লক্ষণ দেখার পর নিম্ন তাপমাত্রা, আর্দ্র ও কুয়াশাচ্ছন্ন স্যাঁতস্যঁতে আবহাওয়া বিরাজ করলে ৩-৪ দিনের মধ্যে গাছ ঝলসে যায় ও দ্রুত মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

রোগ দমনে করণীয়:

১. ফসল উঠার পর জমির আক্রান্ত গাছের পরিত্যক্ত অংশগুলো একত্র করে পুড়ে ফেলতে হবে।

২. রোগমুক্ত এলাকা হতে সুস্থ বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

৩. আলু ও টমেটো গাছ পাশাপাশি লাগান উচিত নয় এবং আলু ও টমেটো ছাড়া জমিতে শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে।

৪. রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করতে হবে।

৫. নিম্ন তাপমাত্রা, উচ্চ আর্দ্রতা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া মাত্র মেলোডি ডিও প্রতি লিটার  পানিতে ২ গ্রাম ও সিকিউর প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে একত্রে মিশিয়ে গাছের পাতার ওপরে ও নিচে ভিজিয়ে ৭ দিন পর পর কমপক্ষে ৩ বার স্প্রে করতে হবে।