নিবন্ধন পেল রঙিন আম-ফলসা

জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে নিবন্ধন পেয়েছে অপ্রচলিত দেশীয় ফল ফলসা। একইসঙ্গে নিবন্ধন পেয়েছে বিদেশ থেকে আসা একটি রঙিন আম। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র জাত দুটির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে ফল দুটিকে নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে।

দেশে এই প্রথম ফলসা ফল নিবন্ধন পেল। এটি নাম পেয়েছে ‘বারি ফলসা-১’। আর রঙিন আমটির নাম হয়েছে ‘বারি আম-১৪’। তবে রঙিন আম এর আগেও নিবন্ধন পেয়েছে। নতুন নিবন্ধন পাওয়া জাতটি এসেছিল সৌদি আরব থেকে। আর ফলসাটি ছিল রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফল গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজা ‘লিয়েনে’ সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আমবাগান নিয়ে গবেষণার কাজ করতেন। ২০১০ সালে তিনি ‘টমিএটকিনস’ জাতের আমগাছের ডাল সংগ্রহ করে আনেন। দেশে ফিরে তিনি সেটি রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রে দেন। এরপর ১০টি গাছে ওই ডালের কলম করা হয়।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দীন জানান, প্রথমে ১০টি গাছে কলম করা হলেও নয়টি গাছই মরে যায়। যত্নে মাত্র একটি গাছকে বাঁচিয়ে রাখা যায়। সেখান থেকে এখন চারটি মাতৃগাছ তৈরি করা হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে গবেষণা করা হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রায় প্রতিবছরই গাছে রঙিন আম পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, আমটি জুলাই মাসের শেষে পাকে। আম পাকার আগেই মেরুন রঙ ধারণ করে। আমের গড় ওজন প্রায় ৫৫০ গ্রাম। এর ভক্ষণযোগ্য অংশ ৭৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গড় মিষ্টতা (টিএসএস) ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আমটি লম্বায় ১০ দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটার ও প্রস্থ ৮ দশমিক ৪৯ সেন্টিমিটার। খোসা পাতলা ও মাংসল। নিবন্ধন পাওয়া জাতটির ধরণ ‘ইনব্রিড’।

ড. আলীম উদ্দীন, অন্যদিকে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় ২০ বছর বয়সী একটি ফলসা ফলের গাছ আছে। ফলসা বাংলাদেশের একটি অপ্রচলিত ফল। আকারে ছোট টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি বাচ্চারা খুবই পছন্দ করে। ফলটি ভিটামিন আর মিনারেলে ভরপুর। গেল ১০ বছর ধরে এই ফলটিরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। তারপরই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়। নিবন্ধন পাওয়া ফলসার ফল বছরের মে-জুন মাসে খাবার উপযোগী হয়। তখন এর রঙ হয়ে ওঠে কাল বা বেগুনি। ফল হয় পাঁচ থেকে ১২ মিলিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট।

তিনি জানান, নতুন এই ফলসা এবং রঙিন আম সারাদেশে চাষ করা সম্ভব। গত ৩১ ডিসেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও জাতীয় বীজ বোর্ডের সচিব নতুন এই আম ও ফলসার নিবন্ধন দেন। সার্থক হয় রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও পরিশ্রম। রোববার নিবন্ধনপত্র রাজশাহী আসে।

ড. আলীম উদ্দীন জানান, আম ও ফলসার নিবন্ধন পাওয়ায় তারা এখন যত বেশি সম্ভব চারা উৎপাদন করবেন। তারপর সরকারি নার্সারিগুলোতে দেবেন। রঙিন আমের চারা এখন চাষি পর্যায়ে খুব বেশি দেয়া সম্ভব না হলেও আগ্রহীদের অন্তত একটি করে তারা দিতে চান। এছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন নার্সারিতেও দু-একটি করে দেয়া হবে, যেন জাতটি ছড়িয়ে পড়ে।

ধীরে ধীরে এটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। আর ফলসার প্রচুর চারা করা সম্ভব বলেও জানান বিজ্ঞানী। সূত্র: জাগো