পাঁচবিবিতে সজিনার বাম্পার ফলন

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পতিত জমিতে প্রতি বছরের মতো এবারও মৌসুমী সবজি সজিনার বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হওয়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সজিনা সাজনা ডাটার উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, সাজনা ডাটায় ১৭-১৮টি ভিটামিনের উপাদান রয়েছে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ভিটামি-এ ও সি উপাদান সবচেয়ে বেশি রয়েছে। সাজনা ডাটা খেতে সু-স্বাদু হওয়ায় স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে এর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক ।

সাজনা ডাটা স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। চাষীরা জানায়, প্রথম দিকে বাজারে সাজনা ডাটা প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে ব্যাপক আমদানি হওয়ায় বাজারে অনেক দাম কমে গেছে। এখন গ্রামে গ্রামে ফড়িয়ারা গিয়ে প্রতি কেজি ১৫-২০ টাকা ক্রয় করছে। যা বর্তমান বাজারের তুলনায় কেজি প্রতি ১০-১৫ টাকা কম।

পাঁচবিবি লতি বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী সুজা জানায়, প্রতিদিন এ বাজারের প্রায় ১২শ থেকে দেড় হাজার মন পর্যন্ত সাজনা ডাটা ক্রয় করা হয়। যেগুলো রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হয়।

পাঁচবিবি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, সাজনা ডাটা প্রধানত দুই প্রজাতির। এর মধ্যে এক প্রজাতির সাজনা ডাটা বছরে তিন থেকে চার বার পাওয়া যায়, যাকে বলা হয় বারমাসী বা রাইখন্ড। অপরটি মৌসুমী হিসাবে পাওয়া যায়।

তারা জানায়, এ উপজেলায় বানিজ্যিক ভাবে সাজনা ডাটা চাষ না হলেও কৃষি বিভাগের আইপিএম, আইসিএম ও এনসিডিটি প্রকল্পের কৃষক মাঠ স্কুলের কৃষক কৃষানীদের মাঝে পতিত জমির আইল, পুকুর পাড়ের আইল, বাঁধের ধারে বাড়ির আশেপাশে এমনকি শহর বন্দরের যেকোনো ফাঁকা জায়গায় লাগানোর জন্য উদ্বৃদ্ধ করেন। এর কোনো বীজ বা চারার প্রয়োজন হয় না। গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুতে রাখলেই গাছ জম্মায়। গাছের কোন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠে এ গাছ। বড়-মাঝারি ধরনের একটি গাছ থেকে ৫-৬ মণ পর্যন্ত সাজনা ডাটা পাওয়া যায়।

বিনা খরচে অধিক লাভ হওয়ায় অনেকেই রাজশাহী ও ভারত থেকে বারমাসী জাতের চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে সাজনা ডাটা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফর রহমান বলেন, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩/৪ বছর আগে কৃষক-কৃষাণীর মাঝে সাজনা ডাটা চাষে উব্দৃদ্ধ করা হয়। ফলে এই কয়েক বছরে উপজেলায় ব্যাপক ভাবে সাজনা ডাটা উৎপাদন হওয়ায় এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছে। সাজনা ডাটার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বহু পুষ্টিগুন ও খেতে সু-স্বাধু বলেও তিনি জানান।