ফিতা দিয়ে গবাদিপশুর ওজন মাপার পদ্ধতি

সারাদেশে ইতোমধ্যে আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে গবাদিপশু বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। পশুর ওজন নির্ণয় করা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতারা অনেক সময় দ্বিধায় থাকেন। তবে একটি সূত্র জানা থাকলে ফিতা দিয়ে মেপেই খুব সহজে ওজন নির্ণয় করা যায়।

ডিজিটাল স্কেল ছাড়া এ পদ্ধতিতে একেবারে শতভাগ সঠিকভাবে ওজন নির্ণয় করা যাবে তা নয়। তবে অনেকটাই সঠিক ওজন নির্ণয় করা সম্ভব।

ফিতায় মেপে পশুর ওজন নির্ণয়ের সূত্র

দৈর্ঘ্য (ইঞ্চি) X বুকের বেড় (ইঞ্চি) / ৬৬০ = পশুর মোট ওজন (কেজি)।

ধরি, আপনার পশুটির দৈর্ঘ্য ৫১ ইঞ্চি এবং বুকের বেড় ৫৬ ইঞ্চি। তাহলে পশুর আনুমানিক ওজন হবে (৫১X৫৬)/৬৬০ = ২৪২.৩৩ কেজি।

যেভাবে শুরু করবেন-

আপনি যে গরুটার ওজন নির্ণয় করতে চাচ্ছেন, সেই গরুকে প্রথমে সোজা করে দাঁড় করান। সকালে গরুকে খাবার দেয়ার আগে ওজন নেয়া উত্তম। এতে সঠিক ওজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। গরুর বুকের বেড় কত ইঞ্চি তা বের করতে হবে এবং লেজের কাছে হাড় থেকে শুরু করে সামনের পায়ের জোড়ার গিট পর্যন্ত ফিতা ধরে দৈর্ঘ্য বের করতে হবে।

গরুর ওজন মাপার সূত্র : গরুর দৈর্ঘ্য X বুকের বেড় X বুকের বেড়/৬৬০

ধরুন, আপনার গরুটির দৈর্ঘ্য ৫১ ইঞ্চি এবং বেড় ৫৬ ইঞ্চি। তাহলে গরুর আনুমানিক ওজন হবে (৫১X৫৬X৫৬)/৬৬০ = ২৪২.৩৩ কেজি.

সুত্র অনুযায়ী প্রাপ্ত মোট ওজনের ৫০ -৫৫ শতাংশ কেজি মাংস পাওয়া সম্ভব।

গাভির ক্ষেত্রে মাংস পাওয়া যাবে দৈহিক ওজনের ৪৫ শতাংশ। এবার সবাই গজ ফিতা নিয়ে হিসাব কসে বের করুন কত কেজি গরুতে কত কেজি মাংস।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ডিজিটাল কোরবানির হাটের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা বা গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। এ নির্দেশিকায় পশুর ওজন নির্ণয়ের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল স্কেলে পশুর মোট ওজন নেওয়া যায়। কমপক্ষে ১৫ দিন আগে নেওয়া ওজনের ওপর ভরসা করতে হবে। এর বেশি আগে ওজন নিয়ে থাকলে আবার ওজন নিয়ে ওয়েবসাইটে আপলোড করার সময় তা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল স্কেলে ওজন দেওয়া থাকলে আপনার পশু বিক্রির সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।