ভেজাল সার চেনার উপায়

চাষী সেবা ডেস্ক: ফসলি জমিতে বেশি ফসলের আশা করেন সবাই। বেশি ফসল উৎপাদনের জন্য জমিতে সঠিক পরিমাণে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। দিন দিন মানুষ বাড়ায়, চাহিদা বাড়ায় এবং ফসলের জমি কমায় মানুষ সনাতন চাষ পদ্বতি ছেড়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেছে। অধিক ফসলের আশায় জমিতে জৈব সারের সাথে রাসায়নিক সারও ব্যবহার করছে কৃষক। আর এরই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে এনেছে ভেজাল সার। ভেজাল সার প্রয়োগে জমির উর্বরতা কমছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে। ভালো ফলন পেতে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে ভেজালমুক্ত সার। কিন্তু বাজারে ভেজাল সারের ভিড়ে আসল সার চেনা কষ্টকর। এবার জেনে নিন আসল সার চিনার উপাায়।

ইউরিয়া সার চেনার উপায়:
আসল ইউরিয়া সারের দানাগুলো সমান হয়। এ সার কেনার সময় প্রথমেই দেখে নিতে হবে যে সারের দানাগুলো সমান আছে কিনা। অসাধু ব্যবসায়ীরা ইউরিয়া সারে কাচের গুঁড়া অথবা লবণ ভেজাল হিসেবে মেশান। ১ চা চামচ (প্রায় ১ গ্রাম) ইউরিয়া সার ২ চা চামচ পরিমাণ পানির মধ্যে দিলে তাৎক্ষনিকভাবে সচ্ছ দ্রবণ তৈরী করবে । এ দ্রবণে হাত দিলে ঠান্ডা অনুতুত হবে । যদি ইউরিয়া সারে চুন মিশ্রিত থাকে তবে ঝাঝালো গন্ধযুক্ত- অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন করবে । যদি ঝাঁঝালো গন্ধসহ গলে না যায়, তবে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল। এ রকম সার ব্যবহার করা যাবে না।

টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) সার চেয়ার উনায়:
এই সার পানিতে মেশালে সাথে সাথে গলে যাবে না। আসল টিএসপি সার ৪-৫ ঘণ্টা পর পানির সাথে মিশবে। কিন্তু ভেজাল টিএসপি সার পানির সাথে মেশালে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই গলে যায়। কেনার সময় এভাবে সার পরীক্ষা করে নিতে হবে। এছাড়া ভেজাল টিএসপি সার সনাক্তের অনেক গুলো পদ্ধতি আছে। যেমন প্রকৃত টিএসপি সারে অমল স্বাদ যুক্ত ঝাঁঝালো গন্ধ থাকবে। কিন্তু ভেজাল টিএসপি সারে অমল স্বাদ যুক্ত ঝাঁঝালো গন্ধ থাকবে না। জিহবা দ্বারা স্বাদ নিলে অম্ল (টক) স্বাদ অনুভূত হবে।

ডিএপি (ডাইএ্যামোনিয়াম ফসফেট):
ভেজাল ডিএপি সার সনাক্তের অনেক গুলো পদ্ধতি আছে। যেমন ১-২ চা চামচ পরিমাণ ডিএপি সার একটি কাগজের উপর খোলা অবস্থায় ১-২ ঘনটা রেখে দিলে যদি সারের নমুনাটি ভিজে না উঠে তবে ধরে নিতে হবে যে নমুনাটি ভেজাল ডিএপি সার। প্রকৃত ডিএপি সারে নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকায় বায়ুমন্ডল থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে কিছুক্ষণের মধ্যে ভিজে উঠে। এ সার চেনার জন্য যে কোনো চামচে অল্প ডিএপি সার নিয়ে একটু গরম করুন। যদি এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয়ে গলে যায় তবে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল। যদি আংশিক গলে যায় তবে বুঝতে হবে সারটি আংশিক পরিমাণ ভেজাল। এছাড়া কিছু পরিমাণ ডিএপি সার হাতের মুঠোয় নিয়ে চুন যোগ করে ডলা দিলে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের হবে। যদি অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের না হয় তাহলে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।

এমওপি বা মিউরেট অব পটাশ
এ সারের সাথে ইটের গুঁড়া ভেজাল হিসেবে মিশিয়ে বিক্রি করা হয়। গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে পটাশ সার মেশালে সার গলে যাবে। ইট বা অন্য কিছু ভেজাল হিসেবে মেশানো থাকলে তা পানিতে গলে না গিয়ে গ্লাসের তলায় পড়ে থাকবে। তলানি দেখে সহজেই বোঝা যাবে সারটি আসল নাকি ভেজাল। এ সার কেনার সময় পরীক্ষা করে নেবেন।

জিংক সালফেট
এই সারে ভেজাল হিসেবে পটাশিয়াম সালফেট মেশানো হয়। জিংক সালফেট চেনার জন্য এক চিলতে জিংক সালফেট হাতের তালুতে নিয়ে তার সাথে সমপরিমাণ পটাশিয়াম সালফেট নিয়ে ঘষলে ঠান্ডা মনে হবে এবং দইয়ের মতো গলে যাবে। এভাবে জিংক সালফেট সার ভেজাল কীনা তা বোঝা যাবে।

আসল জিপসাম সার সনাক্তকরণের পদ্ধতি
একটি কাঁচের বা চিনা মাটির পাত্রে ১ চা চামচ পরিমাণ জিপসাম সারের উপর ১০-১৫ ফোটা পাতলা (১০%) হাইড্রোক্লারিক এসিড আস্তে আস্তে মেশালে যদি বুদ বুদ দেখা দেয় তবে ধরে নেয়া যাবে যে জিপসাম সারের নমুনাটি ভেজাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *